সশস্ত্র হামলায় ইথিওপিয়ায় নিহত অন্তত ৮৫, সর্বত্র আতঙ্ক

10

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সশস্ত্র হামলার এক ঘটনায় ইথিওপিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শিশুসহ ৮৫ জনের বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (ইএইচআরসি) এ তথ্য জানিয়েছে। আলজাজিরা। এদিকে ইথিওপিয়ার সরকার বলেছে, সংঘাতকবলিত তাইগ্রে অঞ্চলের সাবেক ক্ষমতাসীন দলের তিন সদস্যকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেয়ম মেসফিনও।

প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ওই অঞ্চলে সহিংসতার অবসান ঘটাতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফেরাতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে ওই অঞ্চলে পরিদর্শন যান তিনি। ইথিওপিয়ার বিরোধীদলীয় রাজনীতিকেরা বলছেন, ওই অঞ্চলে যে সহিংসতা চলছে, তার মূলে রয়েছে জাতিগত গুমুজ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আমহারাসহ স্থানীয় অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীর বিরোধ।

রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ইএইচআরসির মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যারন ম্যাশো আরও বলেন, ‘আমরা ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। তাদের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মানুষ থেকে শুরু করে ২ বছরের শিশুও রয়েছে।’তিনি বলেন, হামলার দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কেও তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ইএইচআরসির মুখপাত্র অ্যারন ম্যাশো বলেন, সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ইথিওপিয়ার বেনিসাংগুল–গুমুজ এলাকায় মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বেনিসাংগুল-গুমুজের ড্যালেট্টি এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এখানে সহিংসতায় কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর একটি হামলাতেই ২০৭ জন নিহত হন। ম্যাশো বলেন, অব্যাহতভাবে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

মঙ্গলবারের হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন আহমেদ ইয়ামাম গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি ৮২ জনের লাশ গুনেছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হামলাকারীরা প্রধানত ছুরি ও তির নিয়ে হামলা চালায়। ব্যবহার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রও। হামলাকারীরা বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দিয়েছে।