দলের ঐক্য ধরে রাখতে ফখরুলকে বললেন তথ্যমন্ত্রী

12

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার দিকে মন না দিয়ে নিজ দলের ঐক্য ধরে রাখতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মির্জা ফখরুল সাহেবকে অনুরোধ জানাব, অতীতেও তারা বৃহত্তর আন্দোলন করেছেন কিন্তু তাতে তারা ফল পাননি বরং নিজের দলের ঐক্যটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করাই শ্রেয়। হাছান মাহমুদ বলেন, বৃহত্তর ঐক্য তারা (বিএনপি) গত নির্বাচনের আগেও করেছিল। ডান, বাম, অতি বাম, অতি ডান, প্রতিক্রিয়াশীল এবং ধর্মান্ধ গোষ্ঠি সবাইকে এক করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা চেষ্টা করেছিল, সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে।

সেই ঐক্য কাচের গ্লাসের মতে ভেঙে গেছে। যেই দলগুলো একত্রিত হয়েছিল সেই দলগুলোর আভ্যন্তরীণ ঐক্যই নেই এবং বিএনপির ভেতরেই ঐক্য নেই। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত কিছুদিন ধরে যেভাবে একে-অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করছেন এবং সামনের সারিতে বসা নিয়ে যেভাবে তারা মারামারি করেছেন রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গায়, এতে তাদের দলের যে অনৈক্য সেটি বেরিয়ে এসেছে।

প্রথমে দলের ঐক্য স্থাপন করা অ্যতন্ত জরুরি। পৌরসভা নির্বাচনে ব্যর্থতা ও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে ১০ জানুয়ারির মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। পরে সেই কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে ১১ জানুয়ারি করেছে দলটি। এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ১০ জানুয়ারিতে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা মানে তারা যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস আদৌ কতটুকু করে সেটি নিয়ে যে জনগণের প্রশ্ন আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর তারা দিচ্ছেন না, তারা অন্যদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে পারত।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়নি। যেদিন আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে, সেদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা মানেই প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে তারা যে বিশ্বাস করে না সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে তাদের জোটসঙ্গী জামায়াত ইসলামী আছে, যারা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বিরোধীতা করেছিলে দলগতভাবে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলে অর্থাৎ পাকিস্তানের পক্ষে লড়াই করেছিল।

তাদেরকে সাথে নিয়ে ১০ জানুয়ারি বিক্ষোভ করা মানে তারা যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, যেটি জনগণ বলে, সেটি তারা সত্য বলে শিকার করে নিল। মির্জা আবদুল কাদেরের বক্তব্য প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা কাদের যে বক্তব্য রেখেছেন সেটির ব্যাখ্যা তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি নোয়াখালীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেছেন। সারা দেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি, এটি তিনি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন।

‘ভ্যাকসিন নিয়ে সরকার ধূম্রজাল সৃষ্টি করছে’ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের এ বক্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছিল একটি ভুল সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে। সেটি নিরসন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য সচিব দিয়েছেন। এরপরও যারা এসব কথা বলে আসলে তারা জনগণের মনে প্রথম থেকে যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল, সেটার ধারাবাহিকতায় রিজভী আহমেদসহ বিএনপির নেতার এসব কথা বলছেন। বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে ভ্যাকসিন পাবে।