ঢকায় রাস্তার ওপর চামড়ার হাট

5

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে রাস্তার ওপরে বসেই চলছে পশুর চামড়া কেনা বেচা। পাড়া মহল্লা ঘুরে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য রাস্তার ওপরে এনে জড়ো করছেন। যেখানে চামড়া রাখা হচ্ছে সেখানে জমছে পশুর রক্ত ও নানা অংশ। ফলে পরিবহনসহ পথচারীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নষ্ট হচ্ছে রাস্তার স্বাভাবিক পরিবেশ। পথচারীদের দেখা যায়, চামড়া বিক্রির স্থানটি এড়াতে অনেকে এড়িয়ে চলছেন। পশুর চামড়ার দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব দৃশ্য চোখে পড়েছে। রাজধানীর খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, পুরান ঢাকার কাপ্তান বাজার, গুলিস্তান, বংশাল, আজিমপুর, সাইন্সল্যাবসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথায়ও রাস্তার মোড়ে বা রাস্তার উপরে আবার কোথায় ফুটপাতে বসে কোরবানি পশু চামড়া কেনা বেচা হচ্ছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার কারণে হোক আর মন্দার কারণে হোক, রাজধানীতে এ বছর মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে না। অনেক মহল্লায় ঘুরে সারা দিনেও একজন মৌসুমী চামড়া ক্রেতার দেখা মেলেনি। কারণ জানতে চাইলে শাহজাহানপুরের বাসিন্দা মিজান বিন নূর জানিয়েছেন, ব্যবসা মন্দার কারণে এ বছর মৌসুমী ব্যবসায়ীরা হয়তো ঝুঁকি নেয়নি। আর এ বছর এমনিতেই চামড়ার চাহিদা কম, যা আগে থেকেই জানা গেছে। ফলে তারা রাস্তায় নামেনি।

মহল্লায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা না থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে গেছে চামড়া সংগ্রহের জন্য। কোরবানিদাতারাও সেভাবেই মাদ্রাসায় নিজের কোরবানি করা গরু বা ছাগলের চামড়া দান করে দিয়েছেন। তাই মাঠ পর্যায়ে চামড়ার দাম জানা যায়নি। যদিও সরকার এবার গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট সর্বনিম্ন ২৮ সর্বোচ্চ ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এছাড়াও কোরবানির প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা দক্ষিণ কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্ধারিত স্থানে অনেকেই পশু কোরবানি করতে যাননি। তারা নিজেদের বাসার সামনে বা রাস্তায় পশু কোরবানি করেছেন। যারা বাসার সামনে ও মূল সড়কে কোরবানি করছেন, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বাসার সামনে কোরবানি করলে সুবিধা হয়। টানাটানি করতে হয় না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, দক্ষিণ সিটিতে ১২৫টি পশু কোরবানির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পশু জবাইয়ের জন্য ঢাকা দক্ষিণে ৭৫ ইমাম ও ৭৫ কসাই রয়েছেন। নগরবাসীকে রাস্তা কিংবা খোলা জায়গায় কোরবানি না করার অনুরোধ জানানো হলেও অনেকে তা মানছেন না।

খোলা স্থানে পশু জবাই করার কারণে পরিবেশ দূষিত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ডিএসসিসি থেকে প্রায় ১ লাখ বিশেষ ধরনের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। এজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ১ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।