২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৫, শনাক্ত ৩০০৯

7

নিউজ ডেস্ক : করোনায় দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩,০৩৫ জনে। একই সময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩০০৯ জন। নতুন শনাক্ত নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,৩২,১৯৪। বুধবার করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৮৭৮ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ জন। দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১.৩০ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.৩১ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৫৬.১১ শতাংশ।

তিনি বলেন, চব্বিশ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, পাঁচজন নারী। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের, চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যু হয়েছে আটজনের, বরিশাল বিভাগে চারজন, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে দুজন করে এবং রংপুর বিভাগে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

তিনি আরো বলেন, বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে ৬১-৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে, সাতজন করে মৃত্যু হয়েছে ৫১-৬০ ও ৭১-৮০ বছর বয়সীদের মধ্যেম ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে ৪১-৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে এবং একজন করে মৃত্যু হয়েছে ২১-৩০, ৩১-৪০ ও ৮১-৯০ বছরের মধ্যে।

তিনি জানান, গত একদিনে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮২৭ জনকে, ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৬ জন; বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬৬৯ জন। এই সময়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৯৫৫ জনকে, ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭৮ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৭ হাজার ২৪৪ জন। বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা গত ছয় মাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে । চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনায় মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।