জামাকাপড়ের মাপও উনি নেবেন : দেবলীনা দত্ত

8

বিনোদন ডেস্ক : ভারতীয় বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রিতে তার ২২ বছরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন তিনি। অন্যান্যদের মত তিনিও মুখ খুলেছেন ‘নেপোটিজম’ বা ‘স্বজনপোষণ’ নিয়ে। জানালেন- মুখ বন্ধ করে থাকলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে।

তিনি বলেন, ‘ইদানীং শুনতে পাচ্ছি, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নাকি ‘ফেভারিটিজম’ আছে, ‘নেপোটিজম’ বা স্বজনপোষণ নেই। এটা মিথ্যে কথা! ডাহা মিথ্যে বলছে লোকজন। শুধু স্বজনপোষণ নয়, এই ইন্ডাস্ট্রিতে মাফিয়ার আধিপত্য কিছু কম দেখলাম না।’

অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কেরিয়ারের শুরুর দিকে একটু ফিরে যাই। আজ থেকে ২২ বছর আগে আমার দ্বিতীয় ধারাবাহিককে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমাকে বলা হল, প্রযোজক দেখা করতে চেয়েছেন। তখন মা আমার সঙ্গে যেত, মা স্ক্রিপ্ট লিখত।

কিছুক্ষণ প্রযোজকের অফিসে অপেক্ষার পরে উনি বলে পাঠালেন, আমার সঙ্গে উনি একা কথা বলবেন। গেলাম। ওমা! গিয়ে দেখি তার টেবিলের সামনে একটা সিসিটিভি রাখা! আমি বুঝলাম, যত ক্ষণ আমরা বসেছিলাম সিসিটিভি দিয়ে উনি আমাকে আর মাকে দেখছিলেন।

যাই হোক, এখনকার পরিচালক বা প্রযোজকদের মতো কোনও রাখঢাক না করেই উনি আমায় জিজ্ঞেস করলেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে এসেছি, ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে রাজি কি না! আমি চমকে গেলাম। উনি আমাকে আরও সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলেন, প্রযোজকের সঙ্গে অভিনেত্রীর বোঝাপড়া, সখ্য না থাকলে ভাল কাজ হয় না। প্রযোজককেও আলাদা সময় দিতে হবে, তবেই পারস্পরিক সমঝোতা তৈরি হবে।’

তিনি আমাকে বললেন, আমার চরিত্র, সংলাপ সব নিয়ে উনি কথা বলবেন। এমনকি, আমার জামাকাপড়ের মাপও উনি নেবেন। এটা শোনার পর আমি এক কথায় না বলে দেই। তাতে উনি আমাকে চ্যালেঞ্জ করেন, আমি নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে এই মনোভাব নিয়ে টিকে থাকতে পারব না।

দেবলীনা আরও বলেন, ‘৯৯ শতাংশ এক হলেও এই বৃত্তে এক শতাংশ ব্যতিক্রম আছেন। আজ তাদের জন্য বেঁচে আছি। তারা ব্যতিক্রম বলে মাফিয়া হাউজে তারা ঢুকতে পারবেন না। ওই হাউজগুলোয় ঢুকতে গেলে এক ধরনের কথা বলা, পোশাকে চাকচিক্য থাকতেই হবে।’