করোনায় বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর মিছিলে ১ লাখ ৬৫ হাজার

84

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। রোববার গত ২৪ ঘণ্টায় এই মিছিলে যোগ হয়েছে আরও ৫ হাজারের মতো মানুষ (৪ হাজার ৯৬২ জন)। ফলে এই মুহূর্তে বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯য়ে।

বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৪ লাখ ৭ হাজার ৩৩৯ জন। এদের মধ্যে রোববার মাত্র একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৫ হাজার মানুষ।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে দীর্ঘদিন ধরে এক নম্বরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর রয়েছে যথাক্রমে স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে- বিশ্বের করোনা আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে সংক্রামিত ও মৃত্যু এই দুই বিভাগেই শীর্ষে রয়েছে মার্কিন মুলক। গত শনিবার ও রোববার দেশটির হাজার হাজার মানুষ যখন লকডাউন ভাঙার জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে, তখন সেখানে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ হাজার অতিক্রম করেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৫ জন। এদের মধ্যে রোববার একদিনেই মারা গেছে দেড় হাজারের বেশি মানুষ। তবে এই সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশ কম।

যুক্তরাষ্ট্রে রোববার নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। তবে এই সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। এর আগে বিশ্বের পরাক্রমশালী এই দেশটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছিলেন। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৬৫ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকা হচ্ছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। এই রাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ২১৫ জন। ইতালি-স্পেনের চেয়েও বেশি আক্রান্ত এই এক নিউইয়র্ক। এককভাবে এই রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮২৯৮ জনের। আজও এখানে মৃত্যু হয়েছে ৬২৭ জনের।

নিউইয়র্কের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিউ জার্সিতে। মোট ৮৫ হাজার ৩০১ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু করেছে ৪ হাজার ২০২ জন ব্যক্তি। ম্যাসাচুসেটসে আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৩৭২ জন। মৃত্যু ঘটেছে ১৫৬০ জন।

পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৩২ হাজার ৭৩৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ১২৩৭ জনের। মিশিগানে আক্রান্ত ৩১ হাজার ৪২৪ জন। মৃত্যুবরণ করেছে ২ হাজার ৩৯১জন। যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতেই পৌছেছে করোনা। প্রতিটিতেই রয়েছেন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা। তবে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৯ হাজার ৯২৭ জন।

পিছিয়ে নেই ইউরোপও, যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর শীর্ষে থাকা বাকি ৫টি দেশের সবগুলোই ইউরোপের-স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

স্পেনে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৪, মৃত্যু ২০ হাজার ৪৫৩ জন; ইতালিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭২ ও মৃত্যু ২৩ হাজার ৬৬০ জন; ফ্রান্সে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৪ জন, মৃত্যু ১৯ হাজার ৭১৮ জন; জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪২ জন এবং মৃত্যু ৪ হাজার ৬৪২ জন এবং যুক্তরাজ্যে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭ জন এবং মারা গেছেন ১৬ হাজার ৬০ জন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহানের পর করোনার দ্বিতীয় আশ্রয়কেন্দ্র হয় গোটা ইউরোপ। যেখানে মৃতদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এই মহাদেশের নাগরিক। এই অঞ্চলে করোনায় মৃত্যু গত শনিবারই লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ১১ কোটি মানুষ!- এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দাবি করেছেন, বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম করে হলেও সাড়ে ১১ কোটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, অনেকের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত হলেও তার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। ফলে তিনি অসুস্থ হননি। তাই তিনি হাসপাতালেও যাননি। পরীক্ষা না করার কারণে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত হয়নি।

তবে স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এই গবেষণাপত্র শুক্রবার প্রকাশিত হলেও তা এখনও বিশেষজ্ঞদের দ্বারা মূল্যায়িত হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টির ৩ হাজার ৩৩০ ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ওই গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আমাদের জানার চেয়ে ৫০ থেকে ৮৫ গুণ বেশি।