৬ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত, একদিনে ৪৫ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে ৬ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২ জনের দেহে ডাবল মিউটেশন পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইইডিসিআর আলাদাভাবে পরীক্ষা করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে।

এর আগে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেছেন, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি নমুনা পরীক্ষায় ভারতীয় স্টেইন ধরা পড়েছে, যা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটাতে (জিএসআইডি) প্রকাশিত হয়েছে।

জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জার (জিসএইড) তথ্য বলছে, ভারতীয় ধরন বি-১৬১৭ যাদের শরীরে পাওয়া গেছে সেই দুইজনের বয়স ৪১ ও ২৩ বছর। তারা ভারতে ভ্রমণে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের একজন খুলনার ও একজন ঢাকার। দুইজনই পুরুষ। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল। তথ্যগুলো সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে ডাটাবেজে আপলোড করা হয়েছে।

এদিকে ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে করোনার ‘ডাবল’ বা ‘ট্রিপল মিউটেশন’ ভেরিয়েন্টকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান ধরণের অস্তিত্ব মেলে বাংলাদেশে। ঢাকার বনানীর ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় এই স্ট্রেইন পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষক দল। এছাড়া গত ৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা ৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের আরেক নতুন ধরন পাওয়া যায় বলে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়। রূপান্তরিত এই নতুন ধরন গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হয়।

এদিকে, করোনাভাইরাসে দেশে একদিনে আরও ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২৮৫ জন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৩২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭০৩টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৬ লাখ ১৩ হাজার ৯৭৯টি। পরীক্ষা অনুযায়ী মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ১২৭ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ১১ হাজার ৮৭৮ জন।

এছাড়া নতুন করে করোনামুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৯২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬ হাজার ৮৩৩ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।নতুন মৃত্যু ৪৫ জনের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী।

এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২১, চট্টগ্রামে ১৩, রাজশাহীতে ১, খুলনায় ৩, বরিশাল ২, সিলেটে ২ এবং ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১১ হাজার ৮৭৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৮ হাজার ৬১৫ জন এবং নারী ৩ হাজার ২৬৩ জন।